ঢাকা , শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬ , ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
চলতি বোরো মৌসুমে ইউরিয়া সার উৎপাদন ব্যাহতের শঙ্কা ‘হ্যাঁ’ সিল দিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে-আলী রীয়াজ আজকের লড়াই স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে-মির্জা ফখরুল ইসলামপন্থি দলগুলোর প্রার্থীর সংখ্যা বড় আকারে বেড়েছে -টিআইবি নির্বাচনে ১০ দলীয় জোট বিপুল ভোটে জয়ী হবে-নাহিদ ইসলাম জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাব কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ৩ ফেসবুকে বিভিন্ন পরিচয়ে প্রতারণা, প্রতারকের ৭৬ লাখ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত অন্যের এনআইডি বহন কিংবা হস্তান্তর করা যাবে না-ইসি ৮ লাখ ভোট কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ শুরু, চলবে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ সেনাপ্রধানের ত্রয়োদশ নির্বাচনে পোস্টার নেই নির্বাচনী প্রচারে প্রার্থীদের করণীয় ও নিষেধাজ্ঞা ৪৮তম বিশেষ বিসিএস থেকে ৩২৬৩ জনকে ক্যাডার পদে নিয়োগ ত্রয়োদশ নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী তালিকায় তারুণ্য মেলবন্ধনে চমক ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ অনুমোদন উল্লাসে মুখর শিক্ষার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় চাঙা নির্বাচনী মাঠ মানুষই হচ্ছে রাজনৈতিক সকল ক্ষমতার উৎস প্রবাসী নারীকে বিয়ের ফাঁদে ফেলে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন নির্ধারণ করেছে সরকার ঢাকায় গত এক বছরে ৪০৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২১৯

আগাম বন্যায় ফসলহানির শঙ্কা নিয়ে বোরো আবাদ শুরু কৃষকের

  • আপলোড সময় : ১৯-০১-২০২৬ ০৯:৩৫:৫৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৯-০১-২০২৬ ০৯:৩৫:৫৩ অপরাহ্ন
আগাম বন্যায় ফসলহানির শঙ্কা নিয়ে বোরো আবাদ শুরু কৃষকের

* প্রতি বছরই পাহাড়ি ঢলে ওসব ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়
* ফসলহানিতে ব্যাহত করে দেশের সার্বিক খাদ্য জোগান
* প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা আগাম বন্যায় ফসলের ক্ষতি হলে কৃষকরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে
* অকালবন্যাই হাওরের কৃষকের সর্বনাশ ডেকে আনে, বাঁধ নির্মাণ কাজের মন্থরগতি হাওরবাসী শঙ্কিত


হাওরে নির্ধারিত সময়ে বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় আগাম বন্যায় ফসলহানির শঙ্কা নিয়েই বোরো আবাদ শুরু করেছে কৃষক। প্রতি বছরই ফসল রক্ষায় হাওরে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বর ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখনো শুরু হয়নি বিভিন্ন হাওরের বেশির ভাগ বাঁধের কাজ। আর ইতিমধ্যে যেসব হাওরে বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে তার গতি নিয়েও হাওরপাড়ের কৃষকরা হতাশ। মূলত দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্লাবিত নিম্নভূমিকে হাওর অঞ্চল বলা হয়। যা বর্ষাকালে গভীর জলাশয় এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমিতে পরিণত হয়। আর দেশের মোট উৎপাদিত ফসলের প্রায় ৩০ শতাংশ হাওর অঞ্চল থেকে জোগান আসে। বর্ষায় হাওরের বিস্তৃত জলরাশি সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে শুকিয়ে যেতে থাকে। সেখানে কৃষক বিভিন্ন ধরনের ফসল আবাদ করে। হাওর অঞ্চলে বছরে মূলত একবারই ধান আবাদ হয়। প্রধানত বোরো ধান চাষ হয়। যা বছরের প্রধান ফসল। কিন্তু প্রতি বছরই পাহাড়ি ঢলে ওসব ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। যা ব্যাহত করে দেশের সার্বিক খাদ্য জোগানও। কৃষক এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, হাওরবাসীর জীবন-জীবিকা বাঁধ নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত। কারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা আগাম বন্যায় ফসলের ক্ষতি হলে হাওর অঞ্চলের কৃষকরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে। মূলত অকালবন্যাই হাওরের কৃষকের সর্বনাশ ডেকে আনে। বর্তমানে বাঁধ নির্মাণ কাজের মন্থরগতি হাওরবাসী শঙ্কিত। যদিও ২০১৭ সালের বন্যার পর হাওরে বড় ধরনের কোনো দুর্যোগ আসেনি। যে কারণে বাঁধ হওয়া না হওয়া নিয়ে তেমন প্রভাব পড়েনি। হাওর এলাকায় বছরে একটি ফসল উৎপাদন করা যায়। এ বছর সার ও ডিজেলের দাম বেশি থাকায় কৃষকের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। কারণ ১ হাজার ৫০ টাকার সার কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৪২০ থেকে ১ হাজার ৪৫০ টাকায়। আর প্রতি লিটার ডিজেল কিনতে লাগছে ১০৭ টাকায়। অথচ বাঁধ না হওয়ায় অকাল বন্যার শঙ্কা নিয়েই কৃষকরা ফসল আবাদ শুরু করেছে।
সূত্র জানায়, বিগত ১৫ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ শেষ করার কথা রয়েছে। চলতি বছর জেলায় দুই শতাধিক পিআইসির মাধ্যমে ১৪৯ কিলোমিটার বাঁধ মেরামতে প্রাথমিক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা। যদিও পাউবো কর্তৃপক্ষ দাবি, নির্ধারিত সময়েই বাঁধের কাজ শেষ। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। ইতিমধ্যে নেত্রকোনার ১০টি উপজেলার মধ্যে শতভাগ হাওর উপজেলা খালিয়াজুরী, মদন, মোহনগঞ্জ, কলমাকান্দাসহ সাত উপজেলায় ১৩৪টি হাওরে প্রধান ফসল বোরো আবাদশুরু হয়েছে। কৃষি বিভাগ ওই জেলায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৮ হেক্টর জমিতে ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। খালিয়াজুরী, মোহনগঞ্জ, মদন, কলমাকান্দা ও বারহাট্টা উপজেলায় ছোট-বড় ১৩৪টি হাওরের মধ্যে খালিয়াজুরীতেই ৮৯টিই। হাওরাঞ্চলে ৩১০ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে ই উপজেলায় রয়েছে ১৪৯ কিলোমিটার। চলতি বছর ফসল রক্ষায় দুই শতাধিক প্রকল্প নেয়া হয়েছে। তবে সময়মতো কাজ শুরু করা যায়নি সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর, দিরাই, শাল্লাসহ বিভিন্ন উপজেলার কিছু হাওরে। এর অন্যতম কারণ হাওরের পানি অপসারণে বিলম্ব ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন প্রক্রিয়ায় দেরি হওয়া। যেসব হাওরের পানি দ্রুত কমেছে সেসব হাওরে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করা গেছে। ওই জেলার ৯৫টি হাওরের মধ্যে ৫৩টিতে বাঁধের কাজ হওয়ার কথা। সুনামগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কার ও মেরামতে এ বছর ৬৬৬টি পিআইসি গঠন করা হয়েছে। চলতি বছর প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার বাঁধ এলাকায় সংস্কার ও মেরামতের কাজ হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়ের মতে, এবারের বাঁধের কাজ নিয়ে আমরা শঙ্কিত। কাজের অগ্রগতি খুবই হতাশাজনক। নীতিমালা অনুযায়ী ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ ১৫ ডিসেম্বর শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখনো বেশির ভাগ উপজেলায় কাজ শুরু হয়নি। যেসব বাঁধে কাজ শুরু হয়েছে তাতেও ধীরগতি রয়েছে। তাছাড়া পিআইসি গঠনে অনিয়ম, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পসহ রয়েছে অতিরিক্ত বরাদ্দ। নির্বাচনের দোহাই দিয়ে সংশ্লিষ্টরা বাঁধের কাজে গাফিলতি করছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে এ ব্যাপারে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য ৭০৫টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৩৭ কোটি টাকা। ১৫ ডিসেম্বর বাঁধের কাজ ১২ উপজেলায় উদ্বোধন করা হলেও হাওরে পানি নিষ্কাশনে বিলম্ব ও পিআইসি গঠনে দেরি হওয়ায় সব হাওরে কাজ শুরু করা যায়নি। ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৪০০টি প্রকল্পের আওতায় বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। তবে এক সপ্তাহের মধ্যে অবশিষ্ট প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু হয়ে যাবে। বাঁধের কাজের সার্বিক অগ্রগতি ১৫ শতাংশ হয়েছে।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, জেলায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে হাওর এলাকায় ৪৮ হাজার ৩১৩ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে। সমতলে ৩৮ হাজার ১২৬ হেক্টর জমিতে রোপণ করা হয়েছে।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
চলতি বোরো মৌসুমে ইউরিয়া সার উৎপাদন ব্যাহতের শঙ্কা

চলতি বোরো মৌসুমে ইউরিয়া সার উৎপাদন ব্যাহতের শঙ্কা